1. 0shamimreza@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  2. dhakasangbad22@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  3. didar3639@gmail.com : Didarul Alam : Didarul Alam
  4. mdjubaerhossen614@gmail.com : নাটোর জেলা প্রতিনিধি : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
  5. jannataraf10@gmail.com : Umme jannat : Umme jannat
  6. mdsahariyaridoy0@gmail.com : দৈনিক ঢাকা সংবাদ : দৈনিক ঢাকা সংবাদ
০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে ঘিরে ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন কম্পন

ঢাকা সংবাদ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনসম প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ফেরা নিছক কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়—এটি বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

দেশে পা রাখার পর থেকেই তারেক রহমান কার্যত বিশ্রামহীন। কম ঘুম, টানা সফর, বিভাগ থেকে বিভাগে সাংগঠনিক তৎপরতা—এগুলো কোনো সৌজন্য সফর নয়, বরং একটি রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রস্তুতি। তিনি জানেন, সময় কম, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী এবং মাঠ বহুদিন ধরে একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রিত।

১৭ বছর আগে যে বাংলাদেশ তিনি ছেড়ে গিয়েছিলেন, আজকের বাংলাদেশ তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র—সবকিছুই দীর্ঘদিন ধরে একদলীয় কর্তৃত্বের আওতায় পুনর্গঠিত। এই বাস্তবতা তারেক রহমানের কাছে শুধু অচেনা নয়, বরং চ্যালেঞ্জিং ও সংঘাতপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে বিরোধী শক্তির জন্য স্বাভাবিক রাজনীতি কার্যত অসম্ভব। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই তারেক রহমানকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

দেশে ফিরে তিনি একদিকে যেমন মাঠের রাজনীতি চষে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

এতে স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে: তারেক রহমান শুধু ঘরোয়া রাজনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক চাপ ও পর্যবেক্ষণকেও গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চান।

মা ও আদরের ছোট ভাইকে হারানোর গভীর শোক এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে। এত বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পর মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতি কাউকে সেই সময় দেয় না।

শোককে উপেক্ষা করেই তাকে নামতে হয়েছে কঠিন রাজনৈতিক ময়দানে। এটিই বর্তমান পরিস্থিতির নির্মমতা।

তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর ও কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়—তিনি সরাসরি জনগণের কাছে যেতে চাইছেন। কারণ তিনি জানেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যতই নিয়ন্ত্রিত হোক, জনগণই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মূল উৎস।

দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেটি পূরণ করতেই তিনি মাঠে নামছেন। এটি শুধু দলীয় পুনর্গঠন নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান এক অসম যুদ্ধের মুখোমুখি। ব্যক্তিগত ক্ষতি, বদলে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং কঠোর রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি পিছিয়ে নেই। বরং সীমিত সময় ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই তিনি সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিচ্ছেন।

এই প্রত্যাবর্তন কারো জন্য স্বস্তির নয়—বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে ক্ষমতা ভোগ করে এসেছে।

কারণ ইতিহাস বলে, দীর্ঘ নীরবতার পর প্রত্যাবর্তন অনেক সময় ঝড়েরই পূর্বাভাস হয়।

শামীম রেজা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

তারেক রহমানকে ঘিরে ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন কম্পন

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনসম প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ফেরা নিছক কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়—এটি বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

দেশে পা রাখার পর থেকেই তারেক রহমান কার্যত বিশ্রামহীন। কম ঘুম, টানা সফর, বিভাগ থেকে বিভাগে সাংগঠনিক তৎপরতা—এগুলো কোনো সৌজন্য সফর নয়, বরং একটি রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রস্তুতি। তিনি জানেন, সময় কম, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী এবং মাঠ বহুদিন ধরে একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রিত।

১৭ বছর আগে যে বাংলাদেশ তিনি ছেড়ে গিয়েছিলেন, আজকের বাংলাদেশ তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র—সবকিছুই দীর্ঘদিন ধরে একদলীয় কর্তৃত্বের আওতায় পুনর্গঠিত। এই বাস্তবতা তারেক রহমানের কাছে শুধু অচেনা নয়, বরং চ্যালেঞ্জিং ও সংঘাতপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে বিরোধী শক্তির জন্য স্বাভাবিক রাজনীতি কার্যত অসম্ভব। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই তারেক রহমানকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

দেশে ফিরে তিনি একদিকে যেমন মাঠের রাজনীতি চষে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

এতে স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে: তারেক রহমান শুধু ঘরোয়া রাজনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক চাপ ও পর্যবেক্ষণকেও গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চান।

মা ও আদরের ছোট ভাইকে হারানোর গভীর শোক এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে। এত বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পর মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতি কাউকে সেই সময় দেয় না।

শোককে উপেক্ষা করেই তাকে নামতে হয়েছে কঠিন রাজনৈতিক ময়দানে। এটিই বর্তমান পরিস্থিতির নির্মমতা।

তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর ও কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়—তিনি সরাসরি জনগণের কাছে যেতে চাইছেন। কারণ তিনি জানেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যতই নিয়ন্ত্রিত হোক, জনগণই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মূল উৎস।

দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেটি পূরণ করতেই তিনি মাঠে নামছেন। এটি শুধু দলীয় পুনর্গঠন নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান এক অসম যুদ্ধের মুখোমুখি। ব্যক্তিগত ক্ষতি, বদলে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং কঠোর রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি পিছিয়ে নেই। বরং সীমিত সময় ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই তিনি সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিচ্ছেন।

এই প্রত্যাবর্তন কারো জন্য স্বস্তির নয়—বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে ক্ষমতা ভোগ করে এসেছে।

কারণ ইতিহাস বলে, দীর্ঘ নীরবতার পর প্রত্যাবর্তন অনেক সময় ঝড়েরই পূর্বাভাস হয়।

শামীম রেজা