নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্রান্সের সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটিতে মক্তবের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক গুণাবলি এবং বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটি ফ্রান্স। শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির মক্তবের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে রবিবার (২৮ জুন) সকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে প্যারিসের অদুরে স্তা এলাকায় সেন্টারের হলরুম মুখর হয়ে ওঠে। শিশুদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের উৎসাহ এবং অতিথিদের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।
সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটি ফ্রান্সের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মক্তবের শিক্ষক আরিফের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত, কোরআন তেলাওয়াত এবং মনোজ্ঞ ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। তাদের আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা ও সুন্দর উপস্থাপনা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মক্তবের পরিচালক নুরুল ইসলাম, হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত খানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মক্তবের শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
তারা বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, একজন শিশুর সুশিক্ষা, নৈতিক চরিত্র গঠন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে মক্তবে নিয়মিত কোরআন শিক্ষা, ইসলামী জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা, আরবি ভাষা শিক্ষা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও আলোকিত করতে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্থিব শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সন্তানদের আদর্শ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারকে আরও সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মক্তবের বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকারী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এই অর্জনে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সবশেষে উপস্থিত অতিথিরা সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটি ফ্রান্সের শিক্ষা, ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে নৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
























