1. 0shamimreza@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  2. dhakasangbad22@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  3. didar3639@gmail.com : Didarul Alam : Didarul Alam
  4. mdjubaerhossen614@gmail.com : নাটোর জেলা প্রতিনিধি : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
  5. jannataraf10@gmail.com : Umme jannat : Umme jannat
  6. mdsahariyaridoy0@gmail.com : দৈনিক ঢাকা সংবাদ : দৈনিক ঢাকা সংবাদ
০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামে মডেল হলেও বাস্তবতায় পিছিয়ে পেড়াবাড়িয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়

ঢাকা সংবাদ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তিতে ৩৬ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করলেও উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১জন শিক্ষার্থীও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি,অপরদিকে উপজেলায় সাধারণ গ্রেডে ৪৫ জন বৃত্তি পেলেও অত্র মডেল থেকে পেয়েছে মাত্র ২ জন,বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে,তবে প্রয়োজনীয় তুলনায় কম শিক্ষক থাকায় পাঠদান পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী স্থান না পাওয়ায় অনেক অভিভাবক হতাশা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোট ৭০৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯৮ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১০৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। প্রকাশিত ফলাফলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং ৩৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

তবে উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। বিদ্যালয়টির মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী সাধারণ (জেনারেল) গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়টতে পড়াশোনার তুলনায় খেলাধুলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফল করতে পারত এবং ট্যালেন্টপুলৈও বৃত্তি অর্জন সম্ভব হতো। তারা বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও সন্তানদের কথা ভেবে নীরব থাকতে হয়। একসময় বিদ্যালয়টির যে সুনাম ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। তারা বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটি তার হারানো সুনাাম ফিরে পায়।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকতার হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করতে না পারা দুঃখজনক।তিনি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফিরে এলে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন,এ বছর আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে মাত্র দুইজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এমনকি শ্রেণির রোল নম্বর ১ ও ২ শিক্ষার্থীও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। কারণ তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার পরীক্ষা মে মাসে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যায়। প্রায় চার মাসের এই ব্যবধান তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে আমি মনে করি। তবে আগামী বছর এ ঘাটতি কাটিয়ে আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আসরাফ বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালে, আর আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি ২০২৬ সালে। যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়মিত তদারকি করছি। তবে এটি মডেল বিদ্যালয় হলেও এর কার্যক্রম মডেল বিদ্যালয়ের মতো নয়। প্রধান শিক্ষকের বৃত্তি না পাওয়ার কারণ হিসেবে পরীক্ষার সময় দেরি হওয়া বলেছেন আপনি এটা কি হিসেবে দেখছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন বলব, একই সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো বৃত্তি অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টিতে আগে শিক্ষক সংকট ছিল, সেটিও পূরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি দুইবার ইউএনও স্যারকে নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

নামে মডেল হলেও বাস্তবতায় পিছিয়ে পেড়াবাড়িয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তিতে ৩৬ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করলেও উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১জন শিক্ষার্থীও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি,অপরদিকে উপজেলায় সাধারণ গ্রেডে ৪৫ জন বৃত্তি পেলেও অত্র মডেল থেকে পেয়েছে মাত্র ২ জন,বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে,তবে প্রয়োজনীয় তুলনায় কম শিক্ষক থাকায় পাঠদান পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এবার ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী স্থান না পাওয়ায় অনেক অভিভাবক হতাশা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোট ৭০৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯৮ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১০৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। প্রকাশিত ফলাফলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং ৩৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।

তবে উপজেলার একমাত্র পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। বিদ্যালয়টির মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী সাধারণ (জেনারেল) গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়টতে পড়াশোনার তুলনায় খেলাধুলায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফল করতে পারত এবং ট্যালেন্টপুলৈও বৃত্তি অর্জন সম্ভব হতো। তারা বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও সন্তানদের কথা ভেবে নীরব থাকতে হয়। একসময় বিদ্যালয়টির যে সুনাম ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। তারা বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটি তার হারানো সুনাাম ফিরে পায়।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকতার হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর ট্যালেন্টপুলে কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করতে না পারা দুঃখজনক।তিনি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফিরে এলে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন,এ বছর আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে মাত্র দুইজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এমনকি শ্রেণির রোল নম্বর ১ ও ২ শিক্ষার্থীও বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি। কারণ তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার পরীক্ষা মে মাসে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যায়। প্রায় চার মাসের এই ব্যবধান তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে আমি মনে করি। তবে আগামী বছর এ ঘাটতি কাটিয়ে আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আসরাফ বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালে, আর আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি ২০২৬ সালে। যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়মিত তদারকি করছি। তবে এটি মডেল বিদ্যালয় হলেও এর কার্যক্রম মডেল বিদ্যালয়ের মতো নয়। প্রধান শিক্ষকের বৃত্তি না পাওয়ার কারণ হিসেবে পরীক্ষার সময় দেরি হওয়া বলেছেন আপনি এটা কি হিসেবে দেখছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন বলব, একই সময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো বৃত্তি অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টিতে আগে শিক্ষক সংকট ছিল, সেটিও পূরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি দুইবার ইউএনও স্যারকে নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।