1. 0shamimreza@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  2. dhakasangbad22@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  3. didar3639@gmail.com : Didarul Alam : Didarul Alam
  4. mdjubaerhossen614@gmail.com : নাটোর জেলা প্রতিনিধি : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
  5. jannataraf10@gmail.com : Umme jannat : Umme jannat
  6. mdsahariyaridoy0@gmail.com : দৈনিক ঢাকা সংবাদ : দৈনিক ঢাকা সংবাদ
০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাগাতিপাড়ায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মডার্ন ট্রেডে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে রিমার্ক বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মেজর মান্নানের জন্মদিন পালন ফাগুয়ারদিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মোঃ মোশারফ হোসেন বাগাতিপাড়ায় সাপের কামড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরন ও চেক বিতরণ করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল লক্ষীপুর জেলার ৫ নং হাজীরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় ইয়ামিন মুন্না বাগাতিপাড়ায় ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শুরু, ৫ হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন

বিদেশে চাকরির স্বপ্নে সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঘরছাড়া বাগাতিপাড়া সাইফুল

ঢাকা সংবাদ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফজলুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাগ্য ফেরানোর আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে এখন সর্বস্বান্ত নাটোরের বাগাতিপাড়া মো. সাইফুল ইসলাম। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভনে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪২ শতক জমি হারিয়ে দেশে ফেরার পর এখন উল্টো হামলার ভয়ে তিনি ঘরছাড়া।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই প্রতারণা ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সাইফুল ইসলাম জানান, কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মৃত কালাচাঁদের ছেলে প্রবাসী শাকিল আলী তাকে সৌদি আরবের একটি চকলেট কোম্পানিতে মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। সেই আশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে শাকিলের হাতে নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। শুধু তাই নয়, বজরাপুর মৌজার তার নিজ নামের ৪২ শতক ধানি জমিও ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কট বন্ধক হিসেবে লিখে দেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফ্লাইটে সাইফুলকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তাকে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে একটি কক্ষে প্রায় এক মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এই সময়ে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে, বাড়ি থেকে প্রবাসে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ করে বন্দীদশা থেকে তিনি মুক্ত হন।

সাইফুল বলেন, বন্দী অবস্থায় আমাকে ঠিকমতো খাবার বা পানি দেওয়া হতো না। সেখানে আমাকে প্রচন্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এমন দিনও গেছে, যখন বাঁচার জন্য টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) তৈরি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে পুলিশ তাকে আটক করে গত ২২ জুন দেশে পাঠিয়ে দেয়।

দেশে ফিরে সাইফুল তার দেওয়া টাকা ও বন্ধক রাখা জমি ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।
ছাইফুলের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা তার বাড়িতে এসে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে গালিগাগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর দুদিন পর ১৪ আগস্ট কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে এএসআই দুলালের উপস্থিতিতে তাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

তিনি বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন দেশে ফিরে নিজের টাকা ও জমি চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হচ্ছি।

তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও জমি ফেরত এবং দালাল শাকিল আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, আমি সাইফুল ইসলামের জমির বন্ধকনামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলাম, তবে আর্থিক লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলাম না। বিদেশে যাওয়ার বিষয়েই সাইফুল জমিটি বন্ধক দেয়। তিনি থানায় সালিশ এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এবিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

বিদেশে চাকরির স্বপ্নে সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঘরছাড়া বাগাতিপাড়া সাইফুল

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ফজলুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাগ্য ফেরানোর আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে এখন সর্বস্বান্ত নাটোরের বাগাতিপাড়া মো. সাইফুল ইসলাম। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভনে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪২ শতক জমি হারিয়ে দেশে ফেরার পর এখন উল্টো হামলার ভয়ে তিনি ঘরছাড়া।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই প্রতারণা ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সাইফুল ইসলাম জানান, কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মৃত কালাচাঁদের ছেলে প্রবাসী শাকিল আলী তাকে সৌদি আরবের একটি চকলেট কোম্পানিতে মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। সেই আশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে শাকিলের হাতে নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। শুধু তাই নয়, বজরাপুর মৌজার তার নিজ নামের ৪২ শতক ধানি জমিও ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কট বন্ধক হিসেবে লিখে দেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফ্লাইটে সাইফুলকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তাকে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে একটি কক্ষে প্রায় এক মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এই সময়ে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে, বাড়ি থেকে প্রবাসে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ করে বন্দীদশা থেকে তিনি মুক্ত হন।

সাইফুল বলেন, বন্দী অবস্থায় আমাকে ঠিকমতো খাবার বা পানি দেওয়া হতো না। সেখানে আমাকে প্রচন্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এমন দিনও গেছে, যখন বাঁচার জন্য টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) তৈরি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে পুলিশ তাকে আটক করে গত ২২ জুন দেশে পাঠিয়ে দেয়।

দেশে ফিরে সাইফুল তার দেওয়া টাকা ও বন্ধক রাখা জমি ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।
ছাইফুলের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা তার বাড়িতে এসে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে গালিগাগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর দুদিন পর ১৪ আগস্ট কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে এএসআই দুলালের উপস্থিতিতে তাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

তিনি বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন দেশে ফিরে নিজের টাকা ও জমি চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হচ্ছি।

তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও জমি ফেরত এবং দালাল শাকিল আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, আমি সাইফুল ইসলামের জমির বন্ধকনামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলাম, তবে আর্থিক লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলাম না। বিদেশে যাওয়ার বিষয়েই সাইফুল জমিটি বন্ধক দেয়। তিনি থানায় সালিশ এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এবিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।