1. 0shamimreza@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  2. dhakasangbad22@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  3. didar3639@gmail.com : Didarul Alam : Didarul Alam
  4. mdjubaerhossen614@gmail.com : নাটোর জেলা প্রতিনিধি : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
  5. jannataraf10@gmail.com : Umme jannat : Umme jannat
  6. mdsahariyaridoy0@gmail.com : দৈনিক ঢাকা সংবাদ : দৈনিক ঢাকা সংবাদ
০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বাগাতিপাড়ায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মডার্ন ট্রেডে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে রিমার্ক বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মেজর মান্নানের জন্মদিন পালন ফাগুয়ারদিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মোঃ মোশারফ হোসেন বাগাতিপাড়ায় সাপের কামড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরন ও চেক বিতরণ করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল লক্ষীপুর জেলার ৫ নং হাজীরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় ইয়ামিন মুন্না বাগাতিপাড়ায় ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শুরু, ৫ হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন

দেশীয় গ্যাস থেকে আমদানিনির্ভরতা: কীভাবে জ্বালানি সংকটের ফাঁদে পড়ল বাংলাদেশ

ঢাকা সংবাদ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও স্ট্রেইট অব হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শিল্প উৎপাদনে। অথচ মাত্র দুই দশক আগেও দেশের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হতো নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস থেকেই। প্রশ্ন হলো—কীভাবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতিতে পরিণত হলো?

বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এরপর ১৯৬০-এর দশকে তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুরসহ একের পর এক বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। সে সময় এসব ক্ষেত্র বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার ৪.৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যয়ে বিদেশি শেল অয়েল কোম্পানির কাছ থেকে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাকরাবাদ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা—এই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩১ শতাংশ এখনও এসব ক্ষেত্র থেকেই আসে।

পরবর্তীতে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স নতুন গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের গতি ছিল সীমিত। ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর সেটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে দেশে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। ২০১৭ সালে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা ২০২৪ সালের শেষে নেমে আসে প্রায় ১,৮০০–১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অন্যদিকে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১,২০০–১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের মজুদও দ্রুত কমেছে। ২০১০ সালে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ছিল ২৮.৭৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮.৬৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

এই ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি শুরু করে। বর্তমানে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।

তেলের ক্ষেত্রেও দেশের নির্ভরতা বেড়েছে। দেশীয় কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও আংশিক অকটেনের চাহিদা পূরণ হলেও ডিজেল, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। এলপিজির ক্ষেত্রেও প্রায় পুরো বাজারই আমদানিনির্ভর।

জ্বালানি আমদানির ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় যেখানে তুলনামূলক কম, সেখানে আমদানিকৃত এলএনজির খরচ কয়েকগুণ বেশি। অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দের তুলনায় আমদানির পেছনে ব্যয় হচ্ছে বহু গুণ বেশি অর্থ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল পাওয়ার পরও সেখানে প্রত্যাশিত মাত্রায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়ায় দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে আমদানিনির্ভরতা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্পখাতে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহৃত হলেও এসব প্ল্যান্টের দক্ষতা বড় কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম। ফলে মূল্যবান গ্যাসের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় অব্যবহৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বঙ্গোপসাগরে অফশোর কার্যক্রম জোরদার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যেকোনো ভূরাজনৈতিক সংকট দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় গ্যাস থেকে আমদানিনির্ভরতা: কীভাবে জ্বালানি সংকটের ফাঁদে পড়ল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও স্ট্রেইট অব হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শিল্প উৎপাদনে। অথচ মাত্র দুই দশক আগেও দেশের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হতো নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস থেকেই। প্রশ্ন হলো—কীভাবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতিতে পরিণত হলো?

বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এরপর ১৯৬০-এর দশকে তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুরসহ একের পর এক বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। সে সময় এসব ক্ষেত্র বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার ৪.৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যয়ে বিদেশি শেল অয়েল কোম্পানির কাছ থেকে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাকরাবাদ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা—এই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩১ শতাংশ এখনও এসব ক্ষেত্র থেকেই আসে।

পরবর্তীতে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স নতুন গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের গতি ছিল সীমিত। ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর সেটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে দেশে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। ২০১৭ সালে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা ২০২৪ সালের শেষে নেমে আসে প্রায় ১,৮০০–১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অন্যদিকে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১,২০০–১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের মজুদও দ্রুত কমেছে। ২০১০ সালে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ছিল ২৮.৭৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮.৬৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

এই ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি শুরু করে। বর্তমানে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।

তেলের ক্ষেত্রেও দেশের নির্ভরতা বেড়েছে। দেশীয় কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও আংশিক অকটেনের চাহিদা পূরণ হলেও ডিজেল, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। এলপিজির ক্ষেত্রেও প্রায় পুরো বাজারই আমদানিনির্ভর।

জ্বালানি আমদানির ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় যেখানে তুলনামূলক কম, সেখানে আমদানিকৃত এলএনজির খরচ কয়েকগুণ বেশি। অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দের তুলনায় আমদানির পেছনে ব্যয় হচ্ছে বহু গুণ বেশি অর্থ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল পাওয়ার পরও সেখানে প্রত্যাশিত মাত্রায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়ায় দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে আমদানিনির্ভরতা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্পখাতে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহৃত হলেও এসব প্ল্যান্টের দক্ষতা বড় কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম। ফলে মূল্যবান গ্যাসের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় অব্যবহৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বঙ্গোপসাগরে অফশোর কার্যক্রম জোরদার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যেকোনো ভূরাজনৈতিক সংকট দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।