রাজধানীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি: সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, জিডি দায়ের
রাজধানীর খিলক্ষেতে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। খিলক্ষেত পশ্চিম টানপাড়া এলাকায় নিজের জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিক রাকিব হাসান। অন্যদিকে, একই চক্রের বিরুদ্ধে গত ৪ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৩০) দায়ের করেছেন লিমা আক্তার নামের অপর এক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাকিব হাসান জানান, খিলক্ষেত পশ্চিম টানপাড়া এলাকায় নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করার পর থেকেই মিজানুর রহমান তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিজান তাকে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেন। পরবর্তীতে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এসে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে তাকে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং তাদেরও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী লিমা আক্তারের জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পরপরই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে ওঠে একটি সংবদ্ধ চক্র। স্বামীর ক্রয়করা নিকুঞ্জ -২ এর ১০ নম্বর রোড, ২৪ নম্বর প্লটে দীর্ঘদিন যাবৎ দোকানঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন লিমা আক্তার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১৫-২০ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল হঠাৎ তাদের দোকানঘর ও জমি দখল করে নেয়, তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ভাড়াটিয়াদের তাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে ৪ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নেতাকর্মী পরিচয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হলেও চক্রটি প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে পরিচিত। এই চক্রের মূল হোতা মো. মিজানুর রহমান (রেনু) (পিতা: মৃত সামছুদ্দিন, সাং- খিলক্ষেত টানপাড়া, পশ্চিমপাড়া)।
দৃশ্যমান বা বৈধ কোনো ব্যবসা না থাকলেও চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মিজান একাধিক বহুতল ভবনসহ বিপুল পরিমান ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার অধিকাংশ জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল।
কেবল জমি দখলই নয়, মিজানের বিরুদ্ধে মাদক, যৌন নির্যাতন ও গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মিজানের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে জিলিক আত্মহত্যা করে। এছাড়া নিজ বাড়ির গৃহপরিচারিকাকে যৌন নির্যাতনের ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর চাপে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন মিজান।
বর্তমানে সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে ‘বিগত সরকারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে কৃত্রিম ‘মব’ তৈরি করে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হয়।






















