মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে মারধর ও মামলা, বিচার চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মিথ্যা চুরির অপবাদ ও মব সৃষ্টি করে মো. রাজন হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে বেদম মারধর এবং পরবর্তীতে সাজানো মামলায় জেলে প্রেরণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
উপজেলার ৫নং চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মাসুমপুর রনগাজী হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ভুক্তভোগী রাজন হোসেন ওই বাড়ির বাসিন্দা হানিফ হোসেনের ছেলে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর অভিযুক্ত বাবুল গাজী, হারুন চৌকিদার, খলিল জমদ্দার, নাছির, ইসমাইল হোসেন এবং সামসু মেম্বারসহ কয়েকজন মো. রাজনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে একটি দোকানের শাটার বন্ধ করে চুরির অপবাদ দিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে রাজন গুরুতর জখম হন। নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে একটি সাজানো চুরির মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে এবং পরবর্তীতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, “রাজন সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল গাজীসহ অন্যান্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, রাতের বেলা বাড়ির পাশের সিসিটিভি ফুটেজে রাজনকে সন্দেহজনকভাবে দেখা যায়। এর সূত্র ধরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে হেফাজতে নেয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মারধরের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় চণ্ডীপুর ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।













