1. 0shamimreza@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  2. dhakasangbad22@gmail.com : ঢাকা সংবাদ : ঢাকা সংবাদ
  3. didar3639@gmail.com : Didarul Alam : Didarul Alam
  4. mdjubaerhossen614@gmail.com : নাটোর জেলা প্রতিনিধি : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
  5. jannataraf10@gmail.com : Umme jannat : Umme jannat
  6. mdsahariyaridoy0@gmail.com : দৈনিক ঢাকা সংবাদ : দৈনিক ঢাকা সংবাদ
১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জমি সংক্রান্ত আইনগত বিজ্ঞপ্তি মেধাবী ফাতেমার চীনে মেডিকেল পড়ার স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী ৫ লাখ টাকার অনুদান নিজ হাতে তুলে দিলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে মেজর মান্নানের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাটোরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন-ডিসি-ইউএনও প্রত্যাহার প্রিয় রাসুল (সা:) -লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের অভিনন্দন ‘ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান এফবিসিসিআই’র চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান এফবিসিসিআই’র

নাটোরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন-ডিসি-ইউএনও প্রত্যাহার

ঢাকা সংবাদ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পরপরই নাটোরের জেলা প্রশাসক ও দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায়ও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকারি কোনো স্থাপনায় অপরাধ বা হামলার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া দলীয় পরিচয় ও পদ-পদবি বিবেচনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঢালাওভাবে অভিযোগে জড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ আগস্ট। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় দুই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বাগাতিপাড়ার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লালপুরের অভিযোগে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিএনপির প্রশ্ন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ কতটা রয়েছে? প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত না করে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

অভিযোগের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককেও প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনার এই ধারাবাহিকতা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। যদিও সরকারি আদেশে এসব প্রত্যাহারের সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ের ঘটনার কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবুও অভিযোগ দাখিলের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেতেই পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে দলীয় পদ-পদবি উল্লেখ করে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার মধ্যে তাঁরা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধী থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক; কোনো নির্দোষ নেতা-কর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পরও তা মামলা হিসেবে রেকর্ড না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। লালপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, তাঁরা থানায় অভিযোগ দিয়ে এসেছেন, এখন পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাগাতিপাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাগাতিপাড়া থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাকও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, এ বিষয়ে তাঁকে অফিশিয়ালি কেউ কিছু জানাননি। তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবরও নেননি বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি করি। বদলির আদেশ আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক দেখি না।’

তবে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য, প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের যে অভিযোগ ও প্রশ্ন ছিল, সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করে জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্দোলন বা বিক্ষোভের ঘটনায় যদি কেউ আইন ভেঙে থাকে, তাহলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও তারা অবস্থান নিয়েছে।

সব মিলিয়ে নাটোরের ঘটনাটি এখন শুধু ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ বা ভাঙচুরের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা, অজ্ঞাতনামা বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা, অভিযোগের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং মামলা রেকর্ড না হওয়ার বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন।

বিএনপির পক্ষ থেকে তাই দাবি উঠেছে—রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত হোক; প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক এবং কোনো নির্দোষ নেতা-কর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

  • আপডেট সময় : ১০:০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন-ডিসি-ইউএনও প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১০:০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পরপরই নাটোরের জেলা প্রশাসক ও দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায়ও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকারি কোনো স্থাপনায় অপরাধ বা হামলার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া দলীয় পরিচয় ও পদ-পদবি বিবেচনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঢালাওভাবে অভিযোগে জড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ আগস্ট। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় দুই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বাগাতিপাড়ার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লালপুরের অভিযোগে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিএনপির প্রশ্ন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ কতটা রয়েছে? প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত না করে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

অভিযোগের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককেও প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনার এই ধারাবাহিকতা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। যদিও সরকারি আদেশে এসব প্রত্যাহারের সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ের ঘটনার কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবুও অভিযোগ দাখিলের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেতেই পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে দলীয় পদ-পদবি উল্লেখ করে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার মধ্যে তাঁরা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধী থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক; কোনো নির্দোষ নেতা-কর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পরও তা মামলা হিসেবে রেকর্ড না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। লালপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, তাঁরা থানায় অভিযোগ দিয়ে এসেছেন, এখন পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাগাতিপাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাগাতিপাড়া থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাকও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, এ বিষয়ে তাঁকে অফিশিয়ালি কেউ কিছু জানাননি। তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবরও নেননি বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি করি। বদলির আদেশ আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক দেখি না।’

তবে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য, প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের যে অভিযোগ ও প্রশ্ন ছিল, সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করে জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্দোলন বা বিক্ষোভের ঘটনায় যদি কেউ আইন ভেঙে থাকে, তাহলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও তারা অবস্থান নিয়েছে।

সব মিলিয়ে নাটোরের ঘটনাটি এখন শুধু ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ বা ভাঙচুরের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা, অজ্ঞাতনামা বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা, অভিযোগের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং মামলা রেকর্ড না হওয়ার বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন।

বিএনপির পক্ষ থেকে তাই দাবি উঠেছে—রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত হোক; প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক এবং কোনো নির্দোষ নেতা-কর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন।