প্রশাসনকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যে উত্তপ্ত এনসিপি, বিএনপিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা?
শামীম রেজা : নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও বিএনপির বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অভিযোগ, প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গণতন্ত্রের নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির এক পথসভায় দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া দাবি করেন, সরকারি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন। কিন্তু এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তিতে পিছিয়ে থেকে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে আসছে। অথচ সেই দাবি আড়াল করতেই এনসিপি নেতারা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচনকে আগেভাগেই বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনসিপি অভিযোগ করেছে, বিএনপির অভিযোগে নাকি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বিএনপি কোনো অনিয়ম দেখলে তা আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করছে, যা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের পরিচয়। অন্যদিকে, এনসিপির বক্তব্যে বারবার হুমকি, ‘পাতানো নির্বাচন’ শব্দচয়ন এবং সহিংসতার ইঙ্গিত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যে দল ভোটের আগেই ‘জীবন দেওয়ার’ মতো বক্তব্য দেয়, তারা মূলত ভোটের পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চায়। এটি গণতন্ত্র নয়, বরং বিশৃঙ্খলার রাজনীতি।”
পথসভায় এনসিপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা যেভাবে প্রশাসনকে একতরফাভাবে অভিযুক্ত করেছেন, তাতে নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি বরাবরই প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে, সেখানে এনসিপির এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থনে ভরসা না থাকলে এ ধরনের কথাবার্তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। বিএনপি যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, সেখানে এনসিপির বক্তব্য বারবার সংঘাত ও আতঙ্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে নাটোরের এ পথসভা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব অভিযোগ নয়, বরং এনসিপির রাজনৈতিক দুর্বলতা ঢাকতে করা এক ধরনের প্রচার অভিযানে পরিণত হয়েছে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।











