নির্জন বিলে মুখ ও হাত-পা বেঁধে নারীকে গণধর্ষণের পর লুটপাট
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল ২৭ এপ্রিল ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম উসমান ৩য় শীতলক্ষা সেতু টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের পরিকল্পনাকারী চক্রের মূলহোতা ১নং আসামী আকাশ (২২), পিতা- আইয়ুব আলী, সাং- দড়িসোনাকান্দা, হক সাহেবের বাড়ীর গলি, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ’কে গ্রেফতার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গত ১৪/০২/২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে ভিকটিম (২৬) বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন হাজিপুর ট্রেনিং সেন্টারের সামনে গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ (২২) ও তার সঙ্গীয় অন্যান্য এজাহারনামীয় পলাতক আসামীদের সহায়তায় ভিকটিমকে পথরোধ করে মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা বেঁধে পাশর্^বর্তী নির্জন বিলে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ভিকটিম (২৬) এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ (২২) সহ তার সঙ্গীয় অন্যান্য সহযোগী আসামীরা পালাক্রমে ধর্ষন করে এবং ভিকটিমের সাথে থাকা মূল্যবান স্বর্নালংকার, স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ টাকা-পয়সা লুটপাট করে নেয়। অতঃপর গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ (২২) ও সঙ্গীয় অন্যান্য এজাহারনামীয় পলাতক আসামীরা ভিকটিমকে উক্ত ঘটনার কথা প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শণসহ হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিম (২৬) নিজে বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩২, তারিখ- ২৪ ফেব্রæয়ারি ২০২৩ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৩)/৩০ তৎসহ ৩৭৯, পেনাল কোড-১৮৬০। উক্ত গণধর্ষণের পর হতে গ্রেফতারকৃত গণধর্ষণকারী চক্রের মূলহোতা আসামী আকাশ (২২)সহ তার সঙ্গীয় অন্যান্য এজাহারনামীয় পলাতক আসামীরা কৌশলে আত্মগোপনে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি চৌকস গোয়েন্দা দল উক্ত চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার আসামীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে এবং সূত্রোক্ত মামলার মূলহোতা ১নং আসামী আকাশ (২২)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ (২২) বর্ণিত চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী বলে স্বীকার করে। এই মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে বন্দর থানার অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।











