জুলাই গণঅভ্যুত্থান কয়েক জন নেতার ধনী হয়ে ওঠার গল্প নয়: ওয়াসিমুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওয়াসিমুল ইসলাম ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান কয়েক জন নেতার ধনী হয়ে ওঠার গল্প নয়। কত মানুষ আহত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে? অনেক শহীদ পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ব্যক্তি স্বার্থে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নিজেকে লোভের ঊর্ধ্বে নিতে পারেন নি। তাঁর গল্পও মানুষের চোখে ধুলা ছিটিয়ে নিজেকে লাভবান হওয়ার নীল নকশা বাস্তবায়নের ইতিকথা। যার সমালোচনা হচ্ছে এখন সর্বত্র।বাংলাদেশের কথা এদেশের মানুষের কথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নি। সংবিধান সংস্কারের নামে যে সুক্ষ্ম প্রতারণার জাল বিস্তার ড. মুহাম্মদ ইউনূস করে গেছেন তাই এখন সংসদে থাকা বিরোধী দলের মস্ত বড় সম্পদ। এক দল তো বলছে গণ ভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে ছাড়বে। অথচ এরা আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে চাও দল। আবার এরাই ১৯৭০ সালের গণ রায়কে পদদলিত করে এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেকে হত্যা করেছে। এই দ্বিচারিতা তারা ইসলামের নামে করছে। এনসিপি’র রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই দলের নেতাদের রাতারাতি ধনী হয়ে ওঠার সুখবিলাস আজ এদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা – প্রতিনিয়ত হতাশ করে চলেছে। এনসিপি জাতির কাছে তাদের মনোভাব তুলে ধরার জন্য লজ্জাহীনভাবে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে চলেছে। সরকারের সমালোচনা করার সময় তারা ভুলে যায় এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এর অর্থ এনসিপি-জামাত দেশের জনগণের দেয়া রায়কে মানতে রাজি নয়। তারা যা বলছে সেটাই গণরায়! ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। যখন সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে তখন বিরোধী দল লাগাতার ভাবে বলে যাচ্ছে এই সরকারকে তারা ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। বাংলাদেশের আজকের বাস্তবতায় অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। বিরোধী দলের সমর্থন পেয়ে কোনো কোনো গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে কিনা সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকার সীমাবদ্ধতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। রাজনীতি ও গণতন্ত্র যেন আর পথ না হারায় সে বিষয়েও জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।









